বাংলাদেশের পুরুষদের কোন পুষ্টি কম পড়ে: বাংলাদেশ ও ভারত বনাম বিশ্ব
যেসব গবেষণা ও সূত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো লেখার শেষে দেওয়া আছে। সম্পাদকীয় নীতি
প্রতিটি দেশের খাবারে নিজস্ব কিছু ফাঁক থাকে। 2024 সালের একটি বৈশ্বিক গবেষণা দেশে দেশে অনুমান করেছে, কতজন পুরুষ শুধু খাবার থেকে 15টি ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন মেটাতে পারেন না। বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশ ও ভারতের পুরুষরা কোথায়, আর কী খাবেন।

2024 সালের একটি বৈশ্বিক গবেষণার মডেল অনুমানে (Passarelli et al., Lancet Global Health) বাংলাদেশের পুরুষদের শীর্ষ ঘাটতি রাইবোফ্লাভিন (ভিটামিন B2), ভিটামিন ই ও ফোলেট, আর ভারতের পুরুষদের ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন ও জিঙ্ক। বাংলাদেশে ক্যালসিয়াম ঘাটতি 70টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অনুমান করা হয়েছে। উল্টো দিকে, ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি দুই দেশেই সবচেয়ে কমদের দলে। একই দেশ ও একই বয়সের মধ্যে তুলনা করলে, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক, ভিটামিন সি, এ ও B6, থায়ামিন ও নায়াসিনে পুরুষরা বাকি জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি ঘাটতিতে ছিলেন। এগুলো শুধু খাবারের ভিত্তিতে অনুমান; সঠিক শতাংশের চেয়ে ক্রম হিসেবে পড়াই ভালো।
এই লেখায়
বাংলাদেশ ও ভারতের পুরুষ: মডেল কোথায় ঘাটতি দেখছে
- পদ্ধতি
- 2018 সালের খাদ্য তথ্য থেকে প্রতিটি দেশে খাদ্যগ্রহণের বণ্টন অনুমান করে, আন্তর্জাতিক প্রয়োজনের নিচে থাকা মানুষের অংশ হিসাব করা হয়েছে। অনেক দেশের বণ্টনের ধরন একই রকম অন্য দেশ থেকে ধার করা
- ফল
- বিশ্বজুড়ে আয়োডিন, ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম ও আয়রন, প্রতিটিতে 10 জনে 6 জনের বেশি ঘাটতিতে আছেন বলে অনুমান
- সীমাবদ্ধতা
- শুধু খাবার: ফোর্টিফায়েড খাবার ও সাপ্লিমেন্ট ধরা হয়নি, তাই জাতীয় জরিপের সঙ্গে না মিলতে পারে
গবেষণার প্রকাশিত তথ্য থেকে আমরা 70টি দেশ নিয়ে, 20 বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশ ও ভারতের পুরুষদের সেই 70টি দেশের মধ্যমার (মিডিয়ান) সঙ্গে তুলনা করেছি।
| পুষ্টি উপাদান | বাংলাদেশ | ভারত | 70 দেশের মধ্যমা | বাংলাদেশের অবস্থান (1 = সবচেয়ে বেশি ঘাটতি) |
|---|---|---|---|---|
| রাইবোফ্লাভিন (B2) | >99% | 99% | 43% | 1 |
| ভিটামিন ই | >99% | 64% | 74% | 1 |
| ফোলেট | 99% | >99% | 56% | 4 |
| ভিটামিন সি | 98% | 91% | 61% | 4 |
| ক্যালসিয়াম | 86% | 77% | 42% | 1 |
| ভিটামিন এ | 87% | 94% | 33% | 4 |
| ভিটামিন B6 | 85% | 91% | 40% | 6 |
| ভিটামিন B12 | 63% | 87% | 16% | 4 |
| জিঙ্ক | 62% | 97% | 47% | 26 |
| ম্যাগনেসিয়াম | 24% | 10% | 54% | 62 |
Passarelli et al. (2024)-এর 2018 সালের মডেল অনুমান, 20 বছরের বেশি পুরুষ, বয়সভিত্তিক দলগুলো জনসংখ্যা অনুযায়ী ভারযুক্ত। মোটা হরফ: প্রতিটি দেশের শীর্ষ তিন (আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন ডি বাদ; দেখুন "সংখ্যা সাবধানে পড়ুন")। একাধিক দেশ সমান হলে অবস্থান ভাগাভাগি।
- রাইবোফ্লাভিন দুই দেশেরই শীর্ষে। এটি আসে মূলত দুধ, দই, ডিম, মাংস ও কলিজা থেকে।
- বাংলাদেশে ভিটামিন ই ও ক্যালসিয়াম 70টি দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ঘাটতির দলে। ভিটামিন ই আসে বাদাম, বীজ ও কিছু উদ্ভিজ্জ তেল থেকে; ক্যালসিয়াম দুধ, দই আর কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ থেকে।
- ফোলেট দুই দেশেই প্রায় সবার কম। শাক, ডাল ও ছোলা এর ভালো উৎস, কিন্তু অনেকক্ষণ রান্নায় ফোলেট নষ্ট হয়। মডেল কারণ ব্যাখ্যা করে না।
- ভারতে জিঙ্ক আর ভিটামিন B12-ও উঁচুতে। দুটোই মূলত মাংস, মাছ, ডিম ও দুধ থেকে আসে।
- ম্যাগনেসিয়াম ভালো খবর: দুই দেশই 70টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম ঘাটতির দলে। আয়রন পুরুষদের জন্য এই মডেলে দুর্বল সংকেত।
মডেল কতটা নির্ভরযোগ্য: জাপানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা
যেসব দেশ সরাসরি খাদ্যগ্রহণ মাপে এবং সংখ্যা প্রকাশ করে, তাদের সঙ্গে মডেলকে মিলিয়ে দেখা যায়। জাপান তেমন একটি দেশ। জাপানের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জরিপ 2019-কে পুরুষদের জন্য জাপানের 2025 সালের সুপারিশের সঙ্গে তুলনা:
| পুষ্টি উপাদান | পুরুষ 20+, গড় | জাপানের সুপারিশ, এবং ফারাক |
|---|---|---|
| ক্যালসিয়াম | প্রায় 500 mg | 750–800 mg প্রায় 250–300 mg কম |
| ম্যাগনেসিয়াম | 270 mg | 330–380 mg প্রায় 60–110 mg কম |
| ভিটামিন ডি | 7.9 µg | 9.0 µg (পর্যাপ্ত গ্রহণ) প্রায় 1 µg কম |
| জিঙ্ক | 9.2 mg | 9.0–9.5 mg গড়ে প্রায় সমান |
| আয়রন | 8.3 mg | 6.5–7.5 mg গড়ে পূরণ হয় |
দিনে। জাপানের সুপারিশ বয়সভেদে আলাদা, আর বাংলাদেশ বা ভারতের মানের সঙ্গে এক নয়।
ম্যাগনেসিয়ামে জরিপ আর মডেল একমত। কিন্তু জরিপে জাপানি পুরুষদের জিঙ্ক সুপারিশের সমান, অথচ মডেল 95% ঘাটতি অনুমান করেছে: মডেলের পেছনের খাদ্য তথ্য জাপানের নিজস্ব জরিপের চেয়ে অনেক কম গ্রহণ দেখায়। তাই জাপানের ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন B6-এর খুব উঁচু সংখ্যাগুলো সম্ভবত বাড়িয়ে বলা। যেকোনো দেশে, বাংলাদেশেও, এমন ফারাক থাকতে পারে; তাই সঠিক সংখ্যার চেয়ে ক্রম বেশি কাজের। জাপানের জরিপে আরও দেখা গেছে, 20 থেকে 40-এর কোঠার পুরুষরা সবচেয়ে কম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ডি পান; বয়স কম মানেই খাবার সম্পূর্ণ, তা নয়।
দেশে দেশে তুলনা
একই মডেল অনুমান থেকে, 20 বছরের বেশি পুরুষদের শীর্ষ তিনটি ঘাটতি:
| দেশ | শীর্ষ তিন (সবচেয়ে বেশি আগে) |
|---|---|
| বাংলাদেশ | রাইবোফ্লাভিন (B2), ভিটামিন ই, ফোলেট |
| ভারত | ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন (B2), জিঙ্ক |
| পাকিস্তান | ভিটামিন সি, রাইবোফ্লাভিন (B2), ম্যাগনেসিয়াম |
| নেপাল | ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, রাইবোফ্লাভিন (B2) |
| শ্রীলঙ্কা | থায়ামিন (B1), রাইবোফ্লাভিন (B2), ফোলেট |
| থাইল্যান্ড | জিঙ্ক, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম |
| চীন | ভিটামিন ই, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ |
| জাপান | ভিটামিন B6, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক |
| যুক্তরাষ্ট্র | ভিটামিন ই, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম |
| যুক্তরাজ্য | ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, আয়রন |
Passarelli et al. (2024)-এর প্রকাশিত তথ্য, 2018 সালের অনুমান, 20+ পুরুষ, জনসংখ্যা অনুযায়ী ভারযুক্ত। আয়োডিন, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন ডি বাদ।
- রাইবোফ্লাভিন দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশেরই শীর্ষ তিনে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এটি এই অঞ্চলের সাধারণ ফাঁক।
- ফোলেট বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায়।
- ম্যাগনেসিয়ামে অঞ্চলের ভেতরেই বড় ফারাক: পাকিস্তানের শীর্ষ তিনে আছে, অথচ বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে ঘাটতি 70টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কমদের দলে।
যেসব পুষ্টিতে পুরুষদের ঘাটতি বেশি
গবেষণাটি লিঙ্গভেদেও তুলনা করেছে। একই দেশ ও একই বয়সের মধ্যে তুলনা করলে, সাতটি উপাদানে পুরুষরা বাকি জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি ঘাটতিতে ছিলেন:
- ম্যাগনেসিয়াম
- জিঙ্ক
- ভিটামিন সি
- ভিটামিন এ
- ভিটামিন B6
- থায়ামিন (ভিটামিন B1)
- নায়াসিন (ভিটামিন B3)
বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের প্রায় 49%-এর ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি অনুমান করা হয়েছে, বাকি প্রাপ্তবয়স্কদের 29%-এর তুলনায়; জিঙ্কে 56% বনাম 45%। মডেল কারণ বলে না। বাংলাদেশে ভিটামিন সি, এ ও B6 তিনটিই 70টি দেশের মধ্যে উঁচুতে, তাই নিজের খাবার দেখার সময় এগুলো মাথায় রাখুন।
সংখ্যা সাবধানে পড়ুন
দেশভিত্তিক সংখ্যাগুলো শুধু খাবারের ভিত্তিতে মডেল অনুমান। ফোর্টিফায়েড খাবার (যেমন আয়োডিনযুক্ত লবণ বা ভিটামিন এ যুক্ত ভোজ্য তেল) এবং সাপ্লিমেন্ট ধরা হয়নি, তাই যেসব দেশে এগুলো বেশি চলে, সেখানে অবস্থা আসলের চেয়ে খারাপ দেখায়। হিসাবের কিছু অংশ একই রকম দেশ থেকে তথ্য ধার করে, আর জাপানের উদাহরণে যেমন দেখা গেল, ফল দেশের নিজস্ব জরিপ থেকে আলাদা হতে পারে। "কোনো দেশে কোন উপাদান ওপরে" আর "কোন দেশ বেশি", এভাবে পড়ুন, সঠিক শতাংশ হিসেবে নয়। আয়োডিন ও সেলেনিয়াম বাদ দিয়েছি, কারণ প্রকাশিত তথ্য গবেষণাপত্রের নিজস্ব মোটের সঙ্গে মেলে না; ভিটামিন ডি বাদ, কারণ মডেল রোদে ত্বকে তৈরি হওয়া অংশ ধরে না। মডেলে পুরুষদের আয়রনের প্রয়োজন উঁচু ধরা হয়েছে, তাই পুরুষদের আয়রন দুর্বল সংকেত।
আজকের খাবারে কেন কম পড়ে
তালিকার ওপরের উপাদানগুলো মূলত এমন খাবার থেকে আসে, যেগুলো বেশি ভাত আর অল্প তরকারির থালায় সহজে জায়গা হারায়:
- রাইবোফ্লাভিন: দুধ, দই, ডিম, মাংস, কলিজা।
- ভিটামিন ই: বাদাম, বীজ (যেমন সূর্যমুখী বা কুমড়ার বিচি) আর কিছু উদ্ভিজ্জ তেল।
- ফোলেট: শাক, ডাল, ছোলা, কলিজা।
- ক্যালসিয়াম: দুধ, দই, আর মলা-ঢেলার মতো ছোট মাছ কাঁটাসহ।
ম্যাগনেসিয়াম নিয়ে বিস্তারিত আছে পুরুষের ম্যাগনেসিয়াম ঘাটতি লেখায়, আর রোদ ও মাছ নিয়ে পুরুষের ভিটামিন ডি ঘাটতি লেখায়।
কী খাবেন
বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন উৎস:
- রাইবোফ্লাভিন: রোজ এক কাপ দুধ বা এক বাটি দই, একটা ডিম।
- ভিটামিন ই: এক মুঠো কাঠবাদাম, চিনাবাদাম বা সূর্যমুখীর বিচি।
- ফোলেট: পালং, লাল শাক, পুঁই শাক, মসুর ও মুগ ডাল, ছোলা। শাক বেশিক্ষণ না রেঁধে হালকা ভাজি করুন।
- ক্যালসিয়াম: দুধ, দই, কাঁটাসহ ছোট মাছ।
- ভিটামিন সি: পেয়ারা, আমলকী, লেবু, কমলা, কাঁচা মরিচ।
- জিঙ্ক: মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম ও বীজ।
দিনে একটা ডিম, এক বাটি দই, এক পদ শাক আর একটা পেয়ারা বা লেবু, এতেই কয়েকটা ফাঁক একসঙ্গে কমে। গবেষণায় লিঙ্গোত্থানের সঙ্গে যুক্ত খাবারের কথা আছে খাবার ও লিঙ্গোত্থান লেখায়।
রোজকার খাবার মিলিয়ে দেখতে চাইলে
জাতীয় গড় দিয়ে বোঝা যায় না আপনার নিজের খাবারে কী কম পড়ছে; সেটা বোঝা যায় শুধু রেকর্ড থেকে। প্রতিটি খাবার হিসাব করা ঝামেলার, তাই খাবারের ছবি তুলে এক-দুই সপ্তাহের ধরন দেখা সহজ।
ছবি থেকে অনুমান মোটামুটি ধারণা মাত্র, সঠিক পরিমাণ নয়।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
খাবার বদলানো সুস্থ বোধ করা পুরুষদের জন্য। খাবার বা সাপ্লিমেন্ট দিয়ে চেষ্টা না করে আগে ডাক্তার দেখান, যদি:
- ক্লান্তি বা খিদে না থাকা 2 সপ্তাহের বেশি চলে, বা চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমে: পুষ্টির বাইরের কোনো কারণ থাকতে পারে।
- বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্ট হয়, বা লোকে বলে আপনাকে ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে: রক্ত পরীক্ষায় রক্তস্বল্পতা দেখা যায়।
- হাড় বা কোমরের ব্যথা সারছে না, বা সামান্য পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙেছে।
- সাপ্লিমেন্ট খেয়ে বমিভাব, পাতলা পায়খানা বা পিপাসা চলছে: বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- প্রস্রাবে রক্ত, প্রস্রাবে ব্যথা, জ্বর, বা লিঙ্গোত্থান হঠাৎ কঠিন হয়ে গেছে: ইউরোলজিস্ট বা আপনার চিকিৎসককে দেখান।
সাধারণ প্রশ্ন
বাংলাদেশের পুরুষদের কোন পুষ্টি উপাদান সবচেয়ে বেশি কম পড়ে?
2024 সালের একটি বৈশ্বিক গবেষণার মডেল অনুমানে বাংলাদেশের পুরুষদের শীর্ষ তিনটি হলো রাইবোফ্লাভিন (ভিটামিন B2), ভিটামিন ই এবং ফোলেট। ভারতের পুরুষদের ক্ষেত্রে ফোলেট, রাইবোফ্লাভিন ও জিঙ্ক। এগুলো শুধু খাবারের ভিত্তিতে অনুমান, মাপা ফল নয়, তাই ক্রম হিসেবে পড়ুন, সঠিক শতাংশ হিসেবে নয়।
দক্ষিণ এশিয়ার খাবারে কি একই রকম ঘাটতি?
অনেকটা মিল আছে। একই অনুমানে রাইবোফ্লাভিন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা, পাঁচ দেশেরই শীর্ষ তিনে আছে। তবে ম্যাগনেসিয়ামে বড় ফারাক: পাকিস্তানে প্রায় সবার ঘাটতি অনুমান করা হয়েছে, অথচ বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে তা 70টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কমদের দলে।
এই মডেলের সংখ্যা বাংলাদেশের জন্য কতটা ঠিক?
এগুলো অনুমান, মাপা নয়। মডেলটিকে জাপানের জাতীয় পুষ্টি জরিপের সঙ্গে মেলালে দেখা যায়, মডেল জিঙ্ক গ্রহণকে আসলের চেয়ে অনেক কম ধরেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন ফারাক থাকতে পারে, আর ফোর্টিফায়েড খাবার (যেমন ভিটামিন এ যুক্ত ভোজ্য তেল) মডেলে ধরা হয়নি। তাই সঠিক শতাংশের বদলে ক্রম দেখুন: কোনটা ওপরে, কোনটা নিচে।
মাল্টিভিটামিন খেলে কি সব পূরণ হয়ে যাবে?
কিছু ঘাটতি পূরণ হতে পারে, কিন্তু অনেক উপাদানের ঊর্ধ্বসীমা আছে, আর কয়েকটা পণ্য একসঙ্গে খেলে অজান্তে সীমা পেরিয়ে যেতে পারেন। আগে দেখুন আপনার খাবারে কী কম পড়ছে, আর সাপ্লিমেন্ট নিলে পরিমাণ মিলিয়ে নিন। কিডনির রোগ থাকলে বা ওষুধ খেলে আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
সূত্র
- Passarelli S, Free CM, Shepon A, Beal T, Batis C, Golden CD. Global estimation of dietary micronutrient inadequacies: a modelling analysis. Lancet Glob Health. 2024;12(10):e1590-e1599. pubmed.ncbi.nlm.nih.gov/39218000/
- Passarelli S, et al. ওপরের গবেষণার দেশ, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক অনুমান (2018): লেখকদের ডেটা রিপোজিটরি। github.com/cfree14/global_intake_inadequacies
- Harvard Gazette. Billions worldwide deficient in essential micronutrients. 29 August 2024. news.harvard.edu/gazette/story/2024/08/billions-worldwide-de
- Ministry of Health, Labour and Welfare (Japan). National Health and Nutrition Survey 2019, Part 1, Table 1-2 (men, by age group). জাপানি ভাষায়। www.mhlw.go.jp/content/000711006.pdf
- Health and Longevity Net (Japan Foundation for Aging and Health). Magnesium: functions and daily intake, based on the Dietary Reference Intakes for Japanese (2025). জাপানি ভাষায়। www.tyojyu.or.jp/net/kenkou-tyoju/eiyouso/mineral-mg.html
- NIH Office of Dietary Supplements. Magnesium: Fact Sheet for Health Professionals. ods.od.nih.gov/factsheets/Magnesium-HealthProfessional/
- NIH Office of Dietary Supplements. Vitamin D: Fact Sheet for Health Professionals. ods.od.nih.gov/factsheets/VitaminD-HealthProfessional/


